সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন
মুসলমানদের জন্য ঈদ শুধু আনন্দের উপলক্ষ নয়; এটি ইবাদত, কৃতজ্ঞতা এবং সামষ্টিক সম্প্রীতিরও এক বিশেষ দিন। রমজানের এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর এবং কোরবানির মহিমায় ঈদুল আজহার দিনে মুসলমানরা ঈদগাহ বা মসজিদে সমবেত হয়ে আদায় করেন ঈদের বিশেষ নামাজ।
এই নামাজ মুসলিম সমাজে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও দৃঢ় করে তোলে। তাই ঈদের সকালে সময়মতো ঈদগাহে পৌঁছে নামাজ আদায়ের জন্য প্রায় সবাই আগ্রহের সঙ্গে প্রস্তুতি নেন। তবে কখনো দেরি হয়ে যাওয়া, ঘুম থেকে দেরিতে ওঠা কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে কারো ঈদের নামাজ ছুটে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—ঈদের নামাজ পরে কি কাজা করে আদায় করা যায়, নাকি এর জন্য ভিন্ন কোনো বিধান রয়েছে? ইসলামি ফিকহের আলোচনায় এ বিষয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত, ঈদের নামাজ দুই রাকাত। এই নামাজের নিয়ম হলো, নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করে ছানা পড়বে। ছানা পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আরও তিনটি তাকবির বলবে।
প্রথম দুই তাকবির বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। তৃতীয় তাকবির বলার সময় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠিয়ে বেঁধে নেবে। এরপর সুরা-কেরাত পাঠ করে রুকুতে যাবে এবং প্রথম রাকাত সম্পন্ন করবে।
দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে সুরা-কেরাত পড়ার পর রুকুতে যাওয়ার আগে আগের নিয়মে তিনটি তাকবির বলবে। তবে দ্বিতীয় রাকাতে তৃতীয় তাকবির বলার সময়ও হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। এরপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকু করবে এবং অন্যান্য নামাজের মতো যথারীতি নামাজ শেষ করবে। (কিতাবুল আছল : ১/৩১৯, আলহাবীল কুদসী : ১/২৪৩)